৫টি সহজ ও জনপ্রিয় পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্সিং কাজ

easy freelancing bangla article feature image

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে এমন অনেক কাজ রয়েছে যা খুব সহজেই করা যায়, বিশেষ করে ছাত্র অবস্থায় যারা পার্ট টাইম ইনকাম করতে চান তাদের জন্য এ ধরনের কাজগুলো খুবই সহজ হবে। 

এই ধরনের কাজগুলো শিখতে যেমন কম সময় লাগে, তেমনি খুব সহজেই এই কাজগুলো শেষ করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

সহজ ফ্রিল্যান্সিং কাজের লিস্ট

  1. ডিজিটাল মার্কেটিং [যে কোন স্পেসিফিক একটি সেক্টর]
  2. কনটেন্ট রাইটিং – [যেকোন বিষয়ের উপর]
  3. ইউটিউব থাম্নেল ডিজাইন
  4. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  5. ভিডিও এডিটিং

তাহলে চলুন দেখে নেই এই কাজগুলো কি কিঃ-

ডিজিটাল মার্কেটিং এর যে কোন নির্দিষ্ট একটি সেক্টর

ডিজিটাল মার্কেটিং টপিকের মধ্যে অনেক ছোট ছোট টপিক আছে যেগুলো নিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন যেমনঃ ইমেইল মার্কেটিং, ফেসবুক মার্কেটিং অথবা ইউটিউব মার্কেটিং। 

যে কোন একটা স্পেসিফিক টপিক নিয়ে কাজ শুরু করুন তাহলে কাজ শিখতে কম সময় লাগবে এবং সহজে ইনকাম করতে পারবেন।

মনে করেন, আপনি শুধুই ইমেইল মার্কেটিং এর কাজ করলেন তাহলে ইমেইল লেখা, ইমেইল মার্কেটিং করার কৌশল, ইমেইল মার্কেটিং টুলস, পেইড ইমেল মার্কেটিং বা ফ্রি মেইল মার্কেটিং এবং কিভাবে ইমেইল মার্কেটিং করবেন এই সকল কৌশল ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিতে হবে, যাতে মার্কেট প্লেসে অন্যদের সাথে কম্পিটিশন করতে পারেন।

অনলাইন সেক্টরে কোন বিষয়ই ছোট না, নির্দিষ্ট একটা টপিকে যদি আপনি দক্ষ হয়ে ওঠেন সেখান থেকেই আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি এই ছোট্ট একটা টপিক নিয়ে কাজ করুন তাহলে প্রথম দিকেই বেশি প্রেসারে পড়বেন না এবং খুব কম সময়ের মধ্যে ইনকাম করতে পারবেন।

কনটেন্ট রাইটিং যেকোন বিষয়ের উপর 

বর্তমানে কন্টেন্ট রাইটিং অনেক জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং পেশা। এ বিষয়ে দক্ষ হলে ঘরে বসে আপনি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কনটেন্ট লেখার জন্য যে শুধুমাত্র ইংলিশই জানা লাগবে এমন কোন কথা না, আপনি বাংলা ভাষায়ও ভালো মানের কন্টেন্ট লিখতে পারেন। 

ভালো মানের কনটেন্ট লেখার জন্য খুব বেশি দক্ষতার বা ট্রেনিং করার প্রয়োজন হয় না, যে কোন একটা টপিকের উপরে ভালোভাবে জেনে নিয়ে সে বিষয়ে লেখালেখি করতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কনটেন্টটা যেন ইউনিক হয়, কপিরাইট অভিযোগ না আসে এবং এর মধ্যে যেন নতুন কিছু থাকে যাতে ভিজিটররা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের উত্তর এর মধ্যে পায়।

আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে করতে হয়?

আমাদের মতে, স্টুডেন্টদের জন্য কনটেন্ট রাইটিং কাজটি সহজে ইনকাম করার জন্য এবং পার্টটাইম পেশা হিসেবে পারফেক্ট একটি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর। আপনি যদি ভালো কনটেন্ট রাইটিং করতে পারেন বাংলা অথবা ইংলিশে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন আমরা আপনাকে কাজ পেতে সাহায্য করবো। 

ইউটিউব থাম্নেল ডিজাইন

খুবই স্পেসিফিক এবং অনেক জনপ্রিয় একটি কাজ ইউটিউব থাম্নেল ডিজাইন করা। একটি ভালো ইউটিউব থাম্নেল ডিজাইন করার গুরুত্ব যে কতটুকু সেটা শুধুমাত্র একজন youtube এক্সপার্টই বুঝতে পারে। এই কাজটি শিখতে যেমন কম সময় লাগবে তেমনি খুবই কম সময়ের মধ্যে মার্কেটপ্লেস থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যাবে।

এ ধরনের কাজ শেখার জন্য কোন প্রিমিয়াম কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই, ফ্রী ইউটিউব ভিডিও দেখে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। কিছুদিন প্র্যাকটিস করলে আপনি থামনেল ডিজাইনের Boss হয়ে যাবেন তখন আর কোন টেনশন নাই শুধু বসে বসে খান।

স্টুডেন্ট অথবা চাকরিজীবী যারা পার্টটাইম উপার্জন করতে চান তাদের জন্য এই ফ্রিল্যান্সিং কাজটি বেস্ট, কারণ এই কাজটি শিখতে যেমন কম সময় লাগবে তেমনি মার্কেটপ্লেস থেকে উপার্জন করতে খুবই কম সময় লাগবে, এমনকি যাদের ভালো মোবাইল ফোন আছে তারাও এ ধরনের ডিজাইনের কাজ মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

বিগেইনার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ আপনার জন্য পারফেক্ট সিদ্ধান্ত। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর মেইন কাজ হল কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সেক্টর গুলো মেইনটেইন করা যেমন তাদের ফেসবুক পেজে নিয়মিত পোস্ট করা, কাস্টমারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, এছাড়াও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করা, ভিডিও তৈরি করা, টিকটক, ইউটিউব চ্যানেল বা অন্যান্য মিডিয়ায় সেগুলো আপলোড করা। এক কথায় সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সেক্টরে যাবতীয় বেসিক লেভেলের কাজগুলো মেইনটেইন করা।

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট এর প্রচুর কাজ রয়েছে, বিশেষ করে যারা সমাজের পরিচিত মুখ অথবা সেলিব্রেট টাইপের তাদের সোশ্যাল মিডিয়া মেইনটেইন করার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হয়, এ ধরনের কাজগুলো আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রফেশনাল লেভেলের ফ্রিল্যান্সাররা আছে যারা তাদের সকল কাজ নিজে নিজে ম্যানেজ করতে পারে না, তখন তারা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হায়ার করে থাকে যারা এই ধরনের বেসিক লেভেলের ছোটখাটো কাজ করে দেবে। আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে কথা বলে দেখেন, অবশ্যই কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেন আপনাকে হায়ার করবে। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে কাজ করলে বিভিন্ন ধরনের কাজ শেখার সুযোগ তৈরি হয়, পরে ইচ্ছামত যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষ হয়ে প্রফেশনালি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।

ভিডিও এডিটিং

বর্তমানে ভিডিওটি এডিটিং অনেক জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর। ভিডিও এডিটিং সেক্টরে কোন ধরনের ট্রেনিং কোর্সের প্রয়োজন হয় না, আপনি বিভিন্ন ফ্রি ভিডিও দেখে অথবা প্র্যাকটিস করতে করতে এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন।

আপনি চাইলে মোটামুটি পর্যায়ের একটা কম্পিউটার নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তাছাড়াও ভিডিও এডিটিং এর কাজ শিখতে খুব বেশি সময় লাগে না, ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখেই আপনি এডভান্স লেভেলের কাজও শিখে যেতে পারেন।

মার্কেটপ্লেস এ ধরনের কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে খুব সহজেই ইনকাম করার জন্য এটি হতে পারে পারফেক্ট প্লেস। মার্কেট প্লেস ছাড়াও আপনি যদি ভালো মানের ভিডিও এডিটিং করেন, তাহলে নিজেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিওগুলো ইউটিউবে আপলোড করে ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি যদি পার্টটাইম ইনকাম সোর্স খুঁজতে থাকেন তাহলে ভিডিও এডিটিং এর কাজটি শুরু করুন, দেখবেন এক মাস দুই মাস পরেই আপনি মার্কেটপ্লেস থেকে অর্ডার পাওয়া শুরু করেছেন। তাছাড়া এই ধরনের এট্রাক্টিভ কাজ দিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে অনেক ফ্যান-ফলোয়ার তৈরি করা যায় এবং নিজের উপার্জনের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

সবশেষে 

আপনি নিজে যদি স্পেসিফিক কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন যেমন আপনার যদি ভাল কন্ঠ থাকে তাহলে আপনি ভয়েস আর্টিস্ট হতে পারবেন, কেউ লেখালেখি ভালো করতে পারে, কেউ ভালো ডিজাইনের কাজ করতে পারে, কেউ ভালো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজ করতে পারে অথবা অন্য যেকোনো ধরনের স্কিল আপনার রয়েছে। তাহলে মার্কেটপ্লেস যাচাই করে দেখতে পারেন এই দক্ষতার চাহিদা কতটুকু, তারপরে আপনার দক্ষতাকে একটু ঝালাই করে নিয়ে মার্কেটপ্লেসে লেগে পড়ুন অথবা কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন আমরা চেষ্টা করব আপনাদেরকে কোন তথ্য দিয়ে হেল্প করার।

আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং কেনো করবেন না!

Leave a Reply